Friday, 15 September 2017

ব্রহ্মান্ডের ১৪টি ভুবন


আমাদের ব্রহ্মান্ডের ১৪টি ভুবন
সত্যলোক

তপোলোক
জনলোক
মহর্লোক
স্বর্গলোক
ভুবর্লোক
ভূলোক(পৃথিবী)
অতল
বিতল
১০ সুতল
১১ তলাতল
১২ মহাতল
১৩ রসাতল
১৪ পাতাল
সূর্য থেকে চন্দ্রের দূরত্ব লক্ষ যোজন বা ১২ লক্ষ কিলোমিটার চন্দ্র থেকে লক্ষ যোজন বা লক্ষ মাইল ঊর্ধ্বে নক্ষত্রমন্ডল অবস্থিত নক্ষত্রমন্ডল থেকে লক্ষ যোজন বা ২৪ লক্ষ কিলোমিটার ঊর্ধ্বে বুধ গ্রহ অবস্থিত বুধ গ্রহ থেকে লক্ষ যোজন বা ২৪ লক্ষ কিলোমিটার ঊর্ধ্বে শুক্রগ্রহ অবস্থিত শুক্রগ্রহ থেকে লক্ষ যোজন বা ২৪ লক্ষ কিলোমিটার ঊর্ধ্বে মঙ্গলগ্রহ অবস্থিত । মঙ্গলগ্রহ থেকে লক্ষ যোজন বা ২৪ লক্ষ কিলোমিটার ঊর্ধ্বে বৃহস্পতিগ্রহ অবস্থিত । বৃহস্পতিগ্রহ থেকে লক্ষ যোজন বা ২৪ লক্ষ কিলোমিটার ঊর্ধ্বে শনিগ্রহ অবস্থিত শনিগ্রহের ১২ লক্ষ কিলোমিটার উপরে সপ্তর্ষিমন্ডল অবস্থিত সপ্তর্ষিমন্ডলের ১২ লক্ষ কিলোমিটারের উপরে ধ্রুবলোক অবস্থিত । ভৃগুমুনিদের লোক মহর্লোক থেকে ধ্রুবলোকের দূরত্ব কোটি যোজন অর্থাৎ ১২ কোটি কিলোমিটার মহর্লোক থেকে চতুষ্কুমারদের লোক জনলোকের দূরত্ব কোটি যোজন অর্থাৎ ১২ কোটি কিলোমিটারজনলোক থেকে বৈরাজ দেবগনের বাসস্থান তপলোকের দূরত্ব কোটি যোজন বা ৯৬ কোটি কিলোমিটার ঊর্ধ্বে তপলোক থেকে কোটি যোজন ঊর্ধ্বে অর্থাৎ ৪৮ কোটি কিলোমিটার দূরত্বে সত্যলোক (ব্রহ্মার স্থান) অবস্থিত সূর্যমন্ডলের ১০ হাজার অর্থাৎ ৮০ হাজার মাইল নিচে রাহুগ্রহ অবস্থিত । রাহুগ্রহের ১০ হাজার অর্থাৎ ৮০ হাজার মাইল নিচে ভুবর্লোক অবস্থিত ভুর্বলোকের ১০০ যোজন অর্থাৎ ১২০০ কিলোমিটার নিচে ভূলোক বা পৃথিবী । পৃথিবী নীচে রয়েছে সপ্ত পাতাল লোক প্রতি ১০ হাজার যোজন অর্থাৎ ৮০ হাজার মাইল অন্তর অন্তর যথাক্রমে অতল(ময়দানবের পুত্র বলের অবস্থান),বিতল(হরগৌরীর অবস্থান),সুতল(বলি মহারাজ), তলাতল(ময়দানবের অবস্থান), মহাতল(দৈত্য দানবদের বাস), রসাতল(বহু ফণাযুক্ত জ্যোতির্ময় মণি সম্পন্ন সর্পদের বাসস্থান) পাতাল(বাসুকীরাজের অবস্থান) গ্রহলোক অবস্থিত পৃথিবী থেকে পাতাল লোকের দূরত্ব ৭০ হাজার যোজন বা ,৬০,০০০ মাইল পাতাল থেকে ৩০ হাজার যোজন অর্থাৎ ,৪০,০০০ মাইল নিচে অনন্ত ধাম । পৃথিবী থেকে নরক গ্রহের দূরত্ব লক্ষ ৯২ হাজার মাইল




মানস পূজা

সকল প্রকার পুজার মধ্যে মানস পূজাকে শ্রেষ্ঠ পূজা বলে গণ্য করা হয়। মানস পুজায়,সাধারণত যে সকল উপাচারে পূজা করা হয়ে থাকে সেই সমস্ত উপচারই নিবেদন করা যায় তবে তা প্রতীকী অর্থে। কিভাবে সেই স্থুল জিনিষ গুলি নিবেদন করা হয় তার বর্ণনা মহানির্বাণতন্ত্রে পাওয়া যায়। সেখানে  মানস পুজো সম্বন্ধে এই শ্লোকটি আছে


পূজয়েৎ পরয় ভক্ত্যা মানসৈ রূপচক্রৈ হি।
হৃৎপদ্মম্ আসনম্ দদাৎ সহস্রাচ্যুতামৃতৈ হি।।
পাদ্যম্ চরণদ্বয়ো ধ্যায়াৎ মানসস্তবার্ঘ্যম্ নিবেদয়েৎ।
তেনামৃতেন আচমনম্ স্নানীয়মপি কল্পয়েৎ।।
আকাশতত্ত্বম্ বসনম্ গন্ধন্তু গন্ধতত্ত্বকম্।
চিত্তম্ প্রকল্পয়েৎ পুষ্পম্ ধূপম্ প্রাণান্ প্রকল্পয়েৎ।।
তেজস্তত্ত্বান্তু দীপার্থে নৈবেদ্য চ সুধাম্বুধিম্।
অনাহতধ্বনিম্ ঘণ্টাম্ বায়ুতত্ত্বঞ্চ চামরম্।।
নৃত্যমিন্দ্রিয়কর্মাণি চাঞ্চল্যম্ মনস্তথা।।


সাধক নিজের হৃদয়কে পদ্ম রূপে কল্পনা করে সেখানে ইষ্টদেবতার আসন পেতে দেবেন। মস্তিষ্কের সহস্রাতে সহস্রদল পদ্মের যে অমৃত, তা তিনি ইষ্টের পা ধুতে পাদ্য হিসাবে দেবেন। সাধকের মনটি হল অর্ঘ্য। সহস্রার ঐ অমৃতই স্নানজল ও মুখ ধোওয়ার জল রূপে নিবেদন করা হয়, সাধক নিজের ভিতরের আকাশ উপাদানকে বস্ত্র ও ভূমি উপাদানকে গন্ধ রূপে কল্পনা করে নিবেদন করবেন। চিত্তকে পুষ্প কল্পনা করতে হয়। পঞ্চপ্রাণ (প্রাণ, অপান, ব্যান, উদান, সমান) ধূপ ও অগ্নি তত্ত্ব দীপ রূপে নিবেদিত হয়। সাধকের অনাহত চক্রের অনাহত ধ্বনিই ঘণ্টার প্রতীক। আমাদের অন্তরের সুধা ইষ্টের খাদ্য বা নৈবেদ্য। বায়ু তত্ত্ব হল চামর। সমস্ত ইন্দ্রিয়ের ক্রিয়া বা মনের চাঞ্চল্য নৃত্য রূপে ইষ্টদেবতাকে নিবেদন করতে হয়। 

বাহ্যপূজাক্রমেণৈব ধ্যানযোগেন পূজয়েৎ।
সংপূজ্য চিন্তয়েদ্দেবং বচসা মনসা হৃদা।
তথৈব সাধক্যে লোকে চান্তযোগপরায়ণঃ।। ইতি মুণ্ডমালা তন্ত্রে।

হৃদয়ে প্রার্থনামুদ্রা স্থাপনপুর্ব্বক বাহ্যপূজার উপচার উপকরণাদি এবং উল্লিখিত ক্রমদ্বারা মানসপূজা করিতে হয়।বাক্য মন ও হৃদয় দ্বারা মানস পূজা করিবে।



Sunday, 6 August 2017

ঝুলন যাত্রা

যাত্রা বলতে কি বুঝি? যাত্রার অর্থ হল কোনো লক্ষ্যবস্তুকে বা উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে কোনো নির্দিষ্ট স্থান থেকে নির্ধারিত পথে অভিষ্ট স্থানে পৌঁছে যাওয়া। ভগবান শ্রীকৃষ্ণের দ্বাদশ যাত্রার কথা শাস্ত্রে উল্লেখ আছে, তারমধ্যে বিশেষ কিছু হল রথযাত্রা, রাসযাত্রা, দোলযাত্রা, স্নানযাত্রা, ঝুলনযাত্রা ইত্যাদি।
ঝুলনযাত্রা বহুযুগ আগে থেকে ব্রজভূমি বৃন্দাবনে মহাসমারোহে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে, শ্রীকৃষ্ণ এবং শ্রীরাধিকা তাঁদের অষ্টসখী ইন্দুরেখা, চিত্রা, চম্পকলতা, ললিতা, বিশাখা, তুঙ্গবিদ্যা, সুদেবী এবং রঙ্গদেবীর সাথে লীলা করেছিলেন ঐ দিনে। ঝুলন হল বর্ষার লীলা যার অপর নাম হিন্দোলনলীলা। ব্রজবাসীরা এই সময় কদমগাছে ঝুলা বেঁধে রাধাকৃষ্ণকে দোল খাওয়ান। একাদশী থেকে শুরু হয় এই ঝুলনযাত্রা আর শেষ  হয় পঞ্চমদিনের পূর্ণিমাতে।   
রাধা কৃষ্ণের ঝুলনযাত্রা বহিরাঙ্গিকভবে অনেক তাৎপর্যমন্ডিত। এই ঝুলনযাত্রা অনুষ্ঠানটি উদযাপিত হয় শ্রাবণ মাসে। শ্রাবণ মাসের প্রতিপদ তিথি থেকে পূর্ণিমা তিথি পর্যন্ত পাঁচ-দিন এই অনুষ্ঠানটি উদযাপন করা হয়। এই কয়েকদিন রাধা কৃষ্ণের প্রতিমা বা ছবি ঝুলনায়  বসিয়ে পূর্ব থেকে পশ্চিম দিকে ঝুলানো হয়। এখানে প্রতীকী হিসেবে শ্রীকৃষ্ণ হচ্ছেন-পরা প্রকৃতি বা পুরুষোত্তম আর রাধা হচ্ছেন-অপরা প্রকৃতি ভক্ত স্বরূপিনী। প্রকৃত অর্থে এ  হচ্ছে ভক্ত আর ভগবানের খেলা। পূর্বপশ্চিম দিক দিয়ে ঝুলানোর কারণ হলো সূর্যের উদয় অস্ত নির্দিষ্ট করেই করা হয়, কারণ সূর্য হলো পৃথিবীর সকল শক্তির উৎস। আর পৃথিবীর গতি ধারা হচ্ছে-দুটো। আহ্নিকগতি ও বার্ষিক গতি। রাধা কৃষ্ণের ঝুলনযাত্রা অনুষ্ঠানটি কবে কোনো সময়ে সর্ব প্রথম আরম্ভ করা হয়েছিল, সেটা জানা নেই,তবে শাস্ত্র ধারণা মতে, এ অনুষ্ঠানটি  খুব সম্ভবত এগারো দশকে দ্বাপর যুগে আরম্ভ হয়েছিল,  গোপালকে দোলনায় তুলে মা যশোদা ঝুলাতেন। পরবর্তীতে কৃষ্ণের  সঙ্গী সাথীরা গরু চরানোর সময় জঙ্গলের বড় বড় গাছের ডাল থেকে ঝুলানো ঝুলনায় কৃষ্ণকে বসিয়ে খেলা করতেন।  আবার কখনো কৃষ্ণকে নিয়ে গোপ সখা সখিরা সুন্দর সুন্দর ফুল পুষ্পমালা দিয়ে দোলনা সাজিয়ে ঝুলনার আনন্দ উপভোগ করতেন।

শাস্ত্র মতে রাধাহচ্ছেন কৃষ্ণের হলাদিনী শক্তি মহামায়া। রাধা হচ্ছেন কৃষ্ণ ভক্ত শিরোমনি। কৃষ্ণ শক্তিতে, কৃষ্ণপ্রেমে তিনি আরাধিতা ও বলিয়ান তাই তো তিনি রাধা। তাকে বলা হয় জীবজগতের প্রতীকী স্বত্বা, কৃষ্ণ ভক্তের আরাধ্য দেবী। শ্রীকৃষ্ণের প্রেমভক্তিতে তিনি বলিয়ান তাই রাধা রানীর কৃপা হলে অতি সহজেই কৃষ্ণ কৃপা হয়। আবার রাধা শক্তিতে কৃষ্ণ বলবানতাই তো তারা উভয় মিলে এক ও অভিন্ন। 

কৌশিকী অমাবস্যা

  ছবি  কৃতজ্ঞতাঃ- গুগল চিত্র পুরাণমতে, কৌশিকী অমাবস্যার শুভতিথিতে পরাক্রমশালী শুভ-নিশুম্ভ অসুর দুই ভাইকে বধ করার সময়েই দেবী পার্বতীর দেহের ...